সম্যগজ্ঞানপূর্বিকা সর্বপুরুষার্থ সিদ্ধিরিতি তৎ ব্যুতপদ্যেতে এর বিবরণ দাও
“सम्यग्ज्ञानपूर्विका सर्वपुरुषार्थसिद्धिरिति तद् व्युत्पद्यते” – এই বাক্যটাকে ধীরে ধীরে ভেঙে বুঝি।
১. শব্দে শব্দে অর্থ
- सम्यक् (সম্যক্) = শুদ্ধ, সঠিক, সত্য
- ज्ञान (জ্ঞান) = জানার শক্তি, সত্যের সঠিক বোধ
- पूर्विका (পূর্বিকা) = আগে থাকে, ভিত্তি রূপে থাকে
- सर्व (সর্ব) = সব
- पुरुषार्थ (পুরুষার্থ) = জীবনের লক্ষ্য / পুরুষার্থ – জীবের কাম্য সর্বোচ্চ কল্যাণ (আধুনিক ভাষায় সব সৎ উদ্দেশ্য, বিশেষ করে মোক্ষ)
- सिद्धि (সিদ্ধি) = সিদ্ধ হওয়া, লাভ হওয়া, পূর্ণতা প্রাপ্তি
- इति (ইতি) = এইরূপ, এভাবে
- तत् व्युत्पद्यते (তৎ ব্যুত্পদ্যতে) = এইভাবে এর ব্যুৎপত্তি/অর্থ ধরা হয়, এভাবে ব্যাখ্যা করা হয়
সব মিলিয়ে সহজ ভাষায়: > “যে (ধর্ম, সাধনা বা পথ) সঠিক জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে থাকে এবং যা জীবনের সব সত্য ও শ্রেষ্ঠ পুরুষার্থ (বিশেষত মোক্ষ) সিদ্ধ করে – তার ব্যুৎপত্তিগত/মূল অর্থ এইরকম।”
২. সহজ বোঝার মত ব্যাখ্যা
- সম্যগ্-জ্ঞান মানে:
- “পূর্বিকা” মানে –
- “সর্ব-পুরুষার্থ-সিদ্ধি” মানে –
তাই কথাটার সারমর্ম:
> যে পথ বা সাধনা সম্যগ্-জ্ঞান-ভিত্তিক, সেই পথেই জীবের সর্বোচ্চ কল্যাণ বা সব পুরুষার্থ (বিশেষ করে মোক্ষ) সিদ্ধ হয়।
৩. জৈন ধর্মীয় প্রেক্ষিতে
জৈনধর্মে আমরা বলি – সম্যগ্দর্শন, সম্যগ্জ্ঞান, সম্যক্চারিত্র – এই ত্রিরত্নই মোক্ষ মার্গ। তার মধ্যে:
- আগে সম্যগ্দর্শন (সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি, শ্রদ্ধা),
- তারপর সম্যগ্-জ্ঞান (তত্ত্বকে সঠিক ভাবে জানা),
- এরপর সম্যক্-চারিত্র (আসলে সেই অনুযায়ী আচরণ)।
এই বাক্যটি বোঝায় যে – যে জ্ঞান সম্যক্ (সত্য ও শুদ্ধ), সেই জ্ঞানকে ভিত্তি করে চললে তবেই আসল পুরুষার্থ (মোক্ষ-সহ সর্বোচ্চ কল্যাণ) লাভ হয়। শুধু আচার, ক্ৰিয়া, অনুষ্ঠান – যদি সম্যক্-জ্ঞান-শূন্য হয়, তবে তা প্রকৃত পুরুষার্থে পুরোপুরি পৌঁছায় না।
সংক্ষেপে: সম্যগ্-জ্ঞানকে ভিত্তি করে যে সাধনা, তাই সত্যিকারের সব পুরুষার্থ–বিশেষ করে মোক্ষ–লাভ করায়; এই ভাবেই এই বাক্যের অর্থ ধরা হয়।