সম্যক জ্ঞান এর বিবরণ দাও
সম্যক জ্ঞান (सम्यक् ज्ञान / Samyak Jnān) মানে হলো “শুদ্ধ / সঠিক জ্ঞান” — জৈন দর্শনের তিনটি রত্ন (ত্রিরত্ন / Ratnatraya)–এর একটি (১) সম্যক দর্শন – সঠিক দর্শন/বিশ্বাস (২) সম্যক জ্ঞান – সঠিক জ্ঞান (৩) সম্যক চারিত্র – সঠিক আচার
সম্যক জ্ঞানের সহজ অর্থ
জৈন ধর্মে সম্যক জ্ঞান বলতে বোঝায় –- আত্মা (জীব) আর অজীব (দ্রব্য, পদার্থ)–এর প্রকৃত স্বরূপকে ঠিকভাবে জানা
- পাপ–পুণ্য, ধর্ম–অধর্ম, সত্য–অসত্যকে ঠিকভাবে চিনতে পারা
- কর্ম কীভাবে আত্মার সঙ্গে বন্ধন সৃষ্টি করে, কীভাবে তার নিঃসরণ (নির্জরা) ও মুক্তি (মোক্ষ) হয় – এর সঠিক ধারণা থাকা
- জৈন শাস্ত্র ও তীর্থঙ্করদের বাণী যেমন আছে, তেমন করেই গ্রহণ করা – নিজের বিকৃত মত যোগ না করা
এই জ্ঞান “বইয়ের তথ্য” মাত্র নয়; এটা এমন জ্ঞান, যা আত্মা, কর্ম ও মুক্তির পথ সম্পর্কে সঠিক ও নির্বিকার বোধ তৈরি করে।
কী কী বিষয়ে সম্যক জ্ঞান থাকে
জৈন দর্শনে মূল তত্ত্বগুলোকে সাত তত্ত্ব (সপ্ত তত্ত্ব) বলা হয়, যেমন – ১. জীব (আত্মা) ২. অজীব ৩. আস্রব (কর্মের আগমন) ৪. বন্ধ (কর্মের বন্ধন) ৫. সংবর (কর্মের আগমন রোধ) ৬. নির্জরা (কর্মক্ষয়) ৭. মোক্ষ (মুক্তি)এগুলোর সঠিক ধারণা, সাথে অনন্ত ধর্ম–অধর্ম, দেহ–আত্মা ভেদ, অহিংসা প্রভৃতি বিষয়ে যে জ্ঞান ভুল–মুক্ত ও শাস্ত্রসম্মত, তাকেই সম্যক জ্ঞান বলে।
সম্যক জ্ঞান কেন গুরুত্বপূর্ণ
- ভুল ধারণা থাকলে পথই ভুল হয়ে যায়, তাই সব আচার–ব্যবহার আগে সঠিক জ্ঞানের উপর দাঁড়াতে হয়
- সম্যক দর্শন (সঠিক বিশ্বাস) থেকে সম্যক জ্ঞান জন্মায়, আর সেই জ্ঞান সঠিক চারিত্র (আচরণ)–কে পথ দেখায়
- সম্যক জ্ঞান অজ্ঞান ও মোহকে দূর করে; ফলে ক্রোধ, মান, মায়া, লোভ (কষায়) ধীরে ধীরে কমতে থাকে
- ধীরে ধীরে এই জ্ঞান পরিণত হতে হতে সর্বজ্ঞতা (কেবল জ্ঞান)–এর দিকে নিয়ে যায়
দিগম্বর ও শ্বেতাম্বর মতে
দিগম্বর ও শ্বেতাম্বর – দুই পক্ষেই মূল ধারণা এক–- সম্যক দর্শন, সম্যক জ্ঞান, সম্যক চারিত্র – এই তিনই মোক্ষ–পথের মূলে
- সম্যক জ্ঞান মানেই জৈন তত্ত্বের উপরে অখণ্ড, শাস্ত্রসম্মত ও ভুল–মুক্ত জ্ঞান
কেবল গ্রন্থের নাম, শ্রেণীবিভাগ, বা ব্যাখ্যার ধরনে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু অর্থের মূল ভাব একই।
সহজ করে মনে রাখার মতো
- “সম্যক” = ঠিক / শুদ্ধ / সঠিক
- “জ্ঞান” = জানা / বোধ
এ বিষয়ে সহজ বাংলা ব্যাখ্যা আরও পড়তে পারেন এখানে আর তিন রত্ন সম্পর্কে পড়তে পারেন এখানে